সোনালী মিত্রের যোনিজ কবিতাঃ অশ্লীল কবিতা

(অরিণ নামটি এখানে আধার মাত্র,ওই নামের স্থানে রাম -শ্যাম -যদু -মধুও হতে পারেন।কোন বিশেষ ব্যক্তির সাথে সাযুজ্য খুঁজে দয়া করে এক্সট্রা রস আস্বাদনের প্রয়াস করবেন না)
চেনা হাফডজন পুরুষের কোলাজে তুমি ঠিক পড় না ।
বাবুগিরির চোদ্দআনা সিনেমাটিক রঙিনজলের মেহেফিলে
ডিগবাজি খাওয়া চোখে তুলে নিচ্ছে
আমার যন্ত্রমুগ্ধযৌন ১৪ মেগাপিক্সেল ‘অ্যাপেল ‘ ।
নিম্নে ধাবমান শুক্রকীটের আক্রোশ নিয়েই কি শুধু ভাববে
আমার অদ্বিতীয় পুরুষবাজ ? তবে কি
মরফিন-ঘুমে তলিয়ে থাকা ভুঁইফোড় অতিরঞ্জিত সময়ে
বিষাক্ত জেলিফিশের চেয়ে রমণীর শুঁড় আনন্দদায়ক ?
আমিও জেলিফিশ খাওয়া কুমিরদাঁত শান দিয়ে
ডাকব অরিণ , এসো , এসো পেতে রেখেছি
পুরুষের অন্তিমশয্যা , জো জমিনে ফলিয়ে নাও ফসলমাঠ
আর নারীশরীরী সমুদ্রসৌকর্য নিয়ে সৃষ্টি করো সাহিত্য ।
পুরুষের জ্বলন্ত সিগারের ওপর চিত শুয়ে আছি
পটাশিয়াম সাইনায়েড নেই নারী গুহা- গহ্বরে
স্তনে , যোনিতে বাজছে পিয়ানো রিডের গিমিক
ত্রিশলক্ষ কীট পাঠিয়ে দাও তোমাদের সভ্যতা পালিত ক্ষেতে
আমিও ভ্যানিসিং ম্যাথডের অঙ্ক জানি
কীটদের নিহত ভবিষ্যৎ রেখেছি জন্মনিরোধক পিলে ।

অরিণ , পৃথিবীতে একচক্ষু মাকড়শা জাল বুনে যাচ্ছে
নারীর স্তনের দিকে আদিমমত্ত কামনায়
একটা গোটা ‘জন ওয়াকর ‘- মুখে ঢেলে এগিয়ে আসছে
যোনি-রক্তখোর মহাজোঁক ,
র‍্যাটেল স্নেকের বিষাক্ত ধ্বনি নিয়ে
দু’ই ঠ্যাঙের ফাঁকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছে বিশ্বশান্তির পতাকা
প্যালেস্টাইনের হাভাতে শিশুরা গর্ভ থেকে চিৎকার করছে-
মা , আমাকে পৃথিবীতে এনো না
আমাকে জরায়ুর মধ্যেই হত্যা করতে পারতে মহাসৃষ্টি !
শুধু যুদ্ধ করো নারী শরীরের অভয়ারণ্যে
নিহত বর্তমান নিয়েই নারীর অন্তিম সুর-শয্যা ?
আমার জীবন্ত শরীরে শবপোকায় অবৈধ রেণুসম্ভোগে
স্যাঙাত থেমো না , মিনিটে ১২০ হার্টবিট তোল বুকে
৩৬০ ডিগ্রি নারী-গুহার দিকে একপাল ঘেও কুকুর লেলিয়ে
ধ্বজভঙ্গ জানে না কোন হাতে মাই , কোন হাতে থাকে নিমাই
আমিও আমার শরীর একান্নপীঠ তীর্থ করার জন্য
ব্লাউজহীন নীলসৌন্দর্যের দিকে রাখবো না আর শেষশ্বাস !
আমাকে গ্রহণ করতে কষ্ট হয় তোমার প্রেম ?
গলার কাছে জমে আছে অমিতব্যয়ী শ্বাসকষ্ট
ইনসুলিন নির্ভর জলসোহাগের সঙ্গমে পাঁচ’টা ঠোঁট
পাঁচ’টা নামাজী বা পাঁচ’টা পুরোহিত বা পাঁচ’টা বিশপ
যখন ধীরে ধীরে এঁকে দিচ্ছিল লিঙ্গকলার মধ্যে মৃতলক্ষ্মীর মুখ
তখন বাতাসের বেগ যথারীতি স্বাভাবিক …
বৈদিক যজ্ঞ থেকে উঠে এসেছি আমি , নারী
চন্দ্রের ঘরে ষোলআনা অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে শিল্পের সমাধান , নারী
অথচ তোমরা , তোমরা ধর্ষিতা শব্দ আনলে , গণধর্ষণ আনলে
আর শিল্প সাহিত্যে ফুটিয়ে তুললে ধর্ষণশিল্প !
সাইজ ৩৪ ক্যাপের খোলে গণনাতীত মনু-পুরুষের লালা
লালা শেষে হস্তমৈথুনঅঙ্গে ক্যাথিডার মালা পরে
হাসপাতালের চির-নীরোগ নবোদয় !
২০১৫ সালকে প্রেমের স্মরণীয় মাইলফলক বানাতে চাও ?
চাও কি আত্মহত্যা করি ?
মা , পঞ্চাশ অধিবর্ষ ঘুমিয়ে রয়েছে , পঞ্চাশ অধিবর্ষ পাটক্ষেতে শুয়ে
ঘুমন্ত শিরদাঁড়ার উপর দিয়ে খেলে গেছে ফসল
হাজার-লক্ষ যুগসন্ধিক্ষণের শিশুরা কলরোলে হারিয়ে গেছে
এক্স- ওয়াই ফ্যাক্টরে
তোমার আগের প্রেমিকারা কোথায় এখন জেনেছ কি ?
হাজার – হাজার বেদ- উপনিষদ শ্লোক জুড়ে সুস্থতা
হাজার – হাজার তীর্থংকর বর্ণমালা
যা শুনিয়ে গেছে জীবতত্ত্বে
সেসব অস্বীকার করে ‘এ’- ছাপ ময়দামাখা নরমের দিকে ছুটবে ?
স্থবিরতা , শারীরিক নয় বলি যদি মানসিক ?
মা বলেছিলেন তুলসীগাছ পুতে দিও উঠোনের কোণে
তুলসী নারী পবিত্রতা
তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালাতে – জ্বালাতে
অসতী তুলসী হয়ে গেলাম মা , হাজারজোড়া
গনবুট পিষে দেয় দু’শো ছয়’টা মেয়েহাড়ের কঙ্কাল
তখন তোমরা কোথায় থাক পুরুষ ? কোথায় ছিলে অরিণ
কোন বিশল্যকরণী নিয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রেম ? কোন লৌকিক শিল্প
আমার ভাঙা বুকের কাছে হয়েছিল অর্জুন সারথি ?
প্রেম ক্রমশ বাজার দরের চেয়েও ভয়ানক সস্তা হয়ে যাচ্ছে
রজঃস্বলা পৃথিবীর স্তন ,যোনি ,নাভি ,উরু .জঙ্ঘা ,
শিল্প সাহিত্য ললিতকলায় ধর্ষণ শিল্পে হয়ে এলে
আমি , হ্যাঁ আমি হাজার ধর্ষিতা নারীর প্রতিনিধি
হয়ে অশ্লীল ও এডাল্ট কবিতায় বারবার বলবে
ধর্ষণের চেয়ে কোন এডাল্ট শব্দ নেই
ধর্ষণের চেয়ে অশ্লীল কোন শব্দ নেই অভিধানে ।
সানগ্লাস চোখে যারা পৃথিবীর শিল্পের কারবারি , যারা
নারীর উরুজঙ্ঘা, ঠোঁটের উপপাদ্যে নিজের অব্যক্ত কাম
ফুটিয়ে তোলেন তথাকথিত শিল্প সাধনায়
তাদের সুখের জন্য সোনালী মিত্র দায়ী নয় ।
নারীর পায়ের ওপর কোমর , কোমরের ওপর স্তন , আর
সবার ওপর একটা মাথা আছে এই সত্যর সামনে
দ্বিধাহীন বলি- পৃথিবীর সমস্ত নারীঘাতী চোখ অশ্লীল

         হিন্দু পৌরাণিক অতিকথার সূত্রে সোনালী মিত্র একযোগে অভিন্নতা, সংহতি, ঐক্য এবং নিপীড়িতের বোধকে একই পাটাতনে উপস্হাপন করেছেন, যেমন তাঁর ‘রাধাতত্ত্ব’ কবিতায় । সেই সঙ্গে বৃত্তটির পরিধি বিস্তার ঘটান ইতিহাস ও পুরাণের মিশেল দিয়ে । উপস্হাপিত হয় নারীর আত্মজ্ঞান । তাঁর কবি-পারসোনার ইরটিক স্পষ্টভাষণ ও দেহের উৎসববোধ গোঁড়া সমালোচকদের বিব্রত করতে পারে । আমি বলব সেটাই সোনালী মিত্রের লক্ষ্য ।

রাধা তত্ত্ব

তারাখচিত ধাবা । ধুধু বিশলাখি চাকামাতম । আহাঃ প্রান্তিকট্রাক –

ট্রাক-ট্রাক , আহাঃ পরীযোনিধাবা , চোদ্দআনাগরম ।
ফার্মালিনব্রাহ্মণরাত । হুডখোলা প্রান্তরে উলঙ্গবন্দর । আসে ত্যাজ্যযোনি
বাবু , রাতের অভাব জানি । জানু- জানু-জানুউ । কাতুকাতুমাখা দেহাতিট্রাক , রাতটম্বুর,শ্বাসটম্বুর , শ্বাসটম্বুর , ‘খুলে দাও প্রিয়া খুলে দাও বাহুডোর’ ।
হে , সার্ফসফেদদ্রবণ , হে আকন্দক্ষয় , শাদা , মিহিনদুধশাদা , সাধি , সাধ্যাতীত নাও । পেছনে ট্রাকআলো , মেঘআলো , চিন্তিত একবিন্দু ।
কড়কর , কড়কড়ে , ঘামমাখা টাকা একশো কুড়ি  ।
চিন্তিতসরণ , স্মরণ , শরম , সতীসাধ্বী পয়মুখতদেহ , ওগো রাখালিরাধা
ওগো , সখিমোর লিঙ্গসাধা ।

কেন ফোটাফোটা গোলাপজল । জালভৈরব । ক্ষয়জয় , জয়ক্ষয়
দুঃখট্রাক পরিপাট নিখাত নিখাত ।
জ্বলতব্য বুকপাথর , প্রথমসোহাগ শালি মাসিমণি মেয়ে । তারপর , তারপর
অনেকটা ধনঞ্জয় । কৃষ্ণবিবর , নিকুচি করেছি  মাগি ,  শ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজয় ।
মাটিরাস্তা , পিচরাস্তা । রাতরাস্তা । যৌনমেদুর ।
মাগি , এ-সস্তারাতে , শালা ফাঁকা ধাবায় , তারাদের যৌনকেলী

এসো ছল , খল , মল , জল , ও অপ্সরা
এসো , বিবিধ
নলে ঝরে শেষসভ্যতার বীর্য

Comments

ভালো লাগলে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে সহায়তা করুন